সন্ধ্যা ৭:০৬ l সোমবার l ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ l ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ l ৭ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি l গ্রীষ্মকাল
হাইব্রিড ধান আবাদ ২ লাখ হেক্টর জমিতে

হাইব্রিড ধান আবাদ ২ লাখ হেক্টর জমিতে

সরকারের খাদ্য মজুদ আশঙ্কাজনকহারে কমে যাওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে আরও সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কৃষকের স্বার্থে চাল আমদানি সীমিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, ঘাটতি মেটাতে এবার বোরো মৌসুমে অতিরিক্ত প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিড) ধানের আবাদ বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় এপ্রিলের পর নতুন করে চাল আমদানি না করার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকারের খাদ্য মজুদ ও আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব ও পরামর্শ দেওয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বেসরকারি খাতের মাধ্যমে ৬ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টনের এলসি খোলা হয়েছে। এর মধ্যে দেশে পৌঁছেছে ১ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন। ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য দরকার। এর মধ্যে সরকারের মজুদ আছে মাত্র সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য। এ অবস্থায় গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জরুরি ভিত্তিতে সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। পাশাপাশি আমদানির দরপত্র দাখিলের সময়সীমা ৪২ দিনের পরিবর্তে ১০ দিনে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় যাতে এপ্রিলের মধ্যে এসব চাল দেশে আনা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারি মজুদ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সুবিধা নিতে পারে এবং মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মজুদ বাড়ানোর সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। তবে কোনোভাবেই খাদ্য আমদানি উন্মুক্ত করা যাবে না। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সীমিত পরিসরে খাদ্য আমদানির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, আমাদের কৃষকের কথা ভাবতে হবে। বোরোতে অতিরিক্ত যে ২ লাখ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড উৎপাদন হচ্ছে এ থেকে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ধান বেশি উৎপাদন হবে। ফলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি চাল আমদানি করা উচিত হবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি মন্ত্রণালয় চাল আমদানির এই নির্দিষ্ট পরিমাণ বলতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টনের কথা বলেছে। আর চলতি বছরের এপ্রিলের পর খাদ্য আমদানি না করার পরামর্শ দিয়েছে। সাধারণত এপ্রিল থেকে শুরু করে মে মাসের মধ্যে বোরো আবাদ কৃষকের ঘরে ওঠে। এ অবস্থায় বোরো আবাদকে সামনে রেখে উন্মুক্ত আমদানির ঝুঁকি নিতে চায় না কৃষি মন্ত্রণালয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এবার ৪৮ লাখ ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আবাদে অগ্রগতির হার ৯১ শতাংশ। এ মৌসুমে বোরো আবাদ থেকে প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ ৮১ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। গত মৌসুমে বোরো আবাদ হয়েছিল ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ২ কোটি ১ লাখ ৮১ হাজার টন। প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন বেশি আশা করছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার হাইব্রিড জাতের বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১১ লাখ ৪ হাজার ৬৩৩ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৮ হেক্টর জমিতে। আবাদে অগ্রগতির হার ১০৩ শতাংশ। হাইব্রিডের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও ধানের বীজ দেওয়া হয়েছে। এ বাবদ সরকার প্রায় ৭৬ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছে। শুধু হাইব্রিড আবাদ থেকেই প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন বেশি ফলন আশা করা হচ্ছে।

অনুসন্ধান করুন

পুরাতন নিউজ দেখুন

© All rights reserved © 2017 dailybsbd.com

Desing & Developed BY লিমন কবির